 |
| গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া |
মঙ্গলে উষা, বুধে পা, যথা খুশি তথা যা! আবার
মানকুর্দ, আবার ট্রেন; এবার উল্টো দিকে, ছত্রপতি শিবাজী টার্মিনাস !
ট্রেনে সময় লাগে এক ঘন্টা মতো..তার পর লাল রঙের ডাবল ডেকার বাসে গেটওয়ে অফ
ইন্ডিয়া; যথারীতি ট্যুরিস্টের ভিড়, মোবাইল ,dslr এর ক্লিক ক্লিক। পিছন
ফিরে এক ঝলক দেখে নেওয়া তাজ হোটেল, তার পর পায়ে হেঁটে মেরিন ড্রাইভ;
প্রথমবার ঠিকঠাক ভাবে চোখাচোখি আরবসাগরের সাথে!
মেরিন
ড্রাইভ সুন্দর, মেরিন ড্রাইভ ব্যস্ত কিন্তু বিলাসবহুলভাবে অলস ,মেরিন
ড্রাইভ সকলের! কলেজ পালানো প্রেমিক প্রেমিকার ভিড়ে একলা বসে নিজের লোহা
বাঁধানো ছড়ির মাথায় হাত বুলোচ্ছেন ষাটোর্দ্ধ বৃদ্ধ; অতিসাহসী ২০-২২ বাঁধানো
সিমেন্ট ছেড়ে গিয়ে বসছে পাথরের বোল্ডারে! পাশের চওড়া ফুটপাথে এলোমেলো
ঘুরছে কেউ, কেউ বা স্বাস্থ্যসন্ধানের উদ্দেশ্যে হালকা জগিং! ঘড়ির কাঁটা
প্রায় ৭ টা ছুঁইছুঁই , সূয্যি বসেছেন পাটে! গম্ভীর সমুদ্র দূরে লালে লাল,
আলতো পায়ে অলস সন্ধ্যে নেমে আসে ব্যস্ত শহরের বুকে!
 |
| মেরিন ড্রাইভ-সান্ধ্য আলস্য |
পরের দিন আর বাস-ট্রেন নয়, সময় বাঁচাতে কালি -পিলি
ট্যাক্সি চড়ে জুহু! এদিনটা কনফারেন্সের শেষদিন, আমার বন্ধু আজ আর নেই আমার
সাথে, সে ইতিমধ্যেই বিদায় জানিয়েছে মুম্বাইকে! আজ পুরোপুরি একলা চলো রে!
 |
| জুহু -ঢেউ এর কাটাকুটি |
 |
| জুহু-সূর্যাস্ত |
জুহুতে পা শখ মিটিয়ে পা ভেজানো সমুদ্রের জলে, বালির
উপরে বালি জমিয়ে একলাই প্রাসাদ গড়ার খেলা! আবার দেখা শান্ত সূর্যাস্ত, আবার
মানুষের ভিড়ে একলা হয়ে যাওয়া। জুহু যাওয়ার সময় গেছিলাম সমুদ্রের ধার
বরাবর; ফেরার পথে শহরের বুক চিরে! মুম্বাইয়ের বিখ্যাত ট্রাফিক একটু সমস্যা
করলেও, 'আকেলি লড়কি' কে অতি যত্নের সাথে তার গন্তব্যে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন
এইবারকার কালি -পিলি'র ড্রাইভারদাদা!
 |
| সানিয়ার সাথে |
জুহু থেকে সানিয়ার জন্যে একটা সাকা লাকা
বুম বুম মার্কা পেন্সিল কিনে এনেছিলাম, নতুন বন্ধুত্বের স্মৃতি হিসেবে,
ফিরে দেখি, সেও আমার জন্যে নিয়ে এসেছে উপহার!
আর
কি! এইবার ফেরা! ফেরারও গল্প আছে, যেমন ছিল যাওয়ারও, কিন্তু সে
অন্যকোনোখানে, অন্য কোনো দিন! তিনটে অর্ধেক দিন এইখানেই শেষ, আর 'ব্যস্ত'
শহরকে বিদায়! হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও যে শহরে আলসেমির অসংখ্য মুহুর্ত ধরা
দেয়, যদি খুঁজে নিতে পারেন!
No comments:
Post a Comment