শুনেছিলাম ভীষণ ব্যস্ত শহর! শুনেছিলাম আছে শুধু আকাশচুম্বী বহুতল! শুনেছিলাম আরও কত্ত কি! ট্রেনে নাকি 'লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল' মার্কা ভীড়!(যে বন্ধুর থেকে ধার করা কথা, সে এই লেখা পড়বে না, তাই কথাটা নিজের বলে চালিয়ে দিতে অসুবিধা নেই 😀!!) দেখে এলাম, নিজের চোখে! 'bombain'-the good little bay... অধুনা মুম্বাই!!
গেছিলাম কাজেই; কিন্তু কাজের চাইতে 'বিনা কাজের সেবা'তেই কাটিয়ে এসেছি পাঁচটা দিন। 'কালিপিলি' ট্যাক্সি চড়ার উপদেশ আমার সদ্য মুম্বাই ফেরত বন্ধু দিয়েই দিয়েছিলো; 'অনেক কিছু অজানা তথ্য পাওয়া যেতে পারে যদি ড্রাইভার এর সাথে গল্প জুড়ে দিতে পারিস'...কাজেই আকাশ থেকে মাটিতে নেমেই হলুদ-কালো ট্যাক্সির সন্ধান! ড্রাইভার কিন্তু 'মুম্বাইকর' নন! উত্তরপ্রদেশের ব্রাহ্মণ সন্তান! কিন্তু পঁয়ত্রিশ বছর ধরে মুম্বাইতেই ট্যাক্সি চালিয়ে খাচ্ছেন! আমার নাম-গোত্র জেনে আমায় বরাভয় দান করলেন, একলা মেয়ে হলেও ভয়ের কিছু নেই, আমি যেহেতু বামুনের মেয়ে,উনি কোনো এক্সট্রা টাকা না নিয়েই আমায় পৌঁছে দেবেন BARC !বামুনের মেয়ে হিসেবে গর্ব বোধ করব নাকি দেশের অবস্থা দেখে দুঃখ পাবো বুঝতে না পেরে, শেষ অবধি ঠিক করে নিলাম ভিন দেশে সদ্য পা রেখেই বাপ্ ঠাকুরদার সুবাদে পাওয়া এই এক্সট্রা সুবিধাটুকু একটু তারিয়ে উপভোগই করে নি নাহয়!!
কিন্তু মানুষ ভাবে এক, আর হয় এক! আমার প্রিপেইড বুক করা ট্যাক্সির ব্রাহ্মণ ড্রাইভার গাড়ি থেকে নামানোর পর বকশিস চেয়েই নিলেন, জাতভাইকে আর বিদেশ বিভুঁইতে বিমুখ না করে আমিও পঞ্চাশটাকার একখানা নোটকে বিদায় জানালাম!
কথায় বলে, তুমি যাও বঙ্গে,কপাল যায় সঙ্গে ! আমার ফাটা কপাল যে আমার সাথে বঙ্গ ছেড়ে আরবসাগর পাড়ি দেবে তা কে জানতো! পাঁচদিনের প্রত্থমদিনটাতেই ফোনের চার্জার গেলো খারাপ হয়ে! এই লক্ষীছাড়ার দেশে আবার সোমবারে বৃহস্পতিবার! BARC এর ভিতর এবং কাছাকাছি সব দোকান বন্ধ! সোমবার দোকান বন্ধ থাকে এখানে! এদিকে আমার হাতে কাজও নেই তেমন, চার্জার খানারও দরকার!! বিকেল একটু পড়ে এলে বেরোলাম , চার্জার কেনার লক্ষ্যে।
![]() |
| ১০ তলার অন্য বারান্দায়! |
![]() |
| আমার ১০তলার বারান্দা থেকে |
অনুশক্তিনগর, যেখানে আমি ছিলাম , কেউ বলে না দিলে আপনি বিশ্বাসই করবেন না যে আপনি মুম্বাইতে আছেন! ফোনের টাওয়ার লাগে না, 3g ইন্টারনেটপাওয়া তো কল্পনার অতীত! পশ্চিমবাংলার যেকোনো সাধারণ মফঃস্বল শহরে এই জায়গার থেকে বেশি আওয়াজ শুনতে পাবেন আপনি, বেশি জীবন পাবেন! কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা আর পরিচ্ছন্নতায় পাহাড়ের কোলের উপর এই শহর অতুলনীয়! মুম্বাইয়ের ব্যস্ততার গল্প শুনে গেছিলাম, থেকে এলাম চরম শান্তি আর নীরবতার মধ্যে! মুম্বাইয়ের মধ্যে একটুকরো অমুম্বাইসুলভ নিশ্চিন্দিপুর!
প্রথমদিনের গল্পে আর বেশি কিছু নেই, রথ দেখা এবং, বেশি গুরুত্বপূর্ণ , কলা বেচার শুরু পরের দিন থেকে; ব্যস্ত শহরের শ্রান্ত বিকেলের গল্প, রাখে হরি মারে কে'র গল্প!
আস্তে আস্তে হবে খন!



No comments:
Post a Comment